এইসব ঋণ ভালো লাগে!


এপ্রিল ৩০ ২০২০

ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন

আমার কাছের যতগুলো বন্ধু আছে, তার মধ্যে রিভিকে (ছদ্ম নাম) আমি সম্প্রতি খুব জ্বালাই। কোন এক অজ্ঞাত কারণে রিভিও সবকিছু মেনে নেয়। রিভি বাংলাদেশের বড় এক ওষুধ কোম্পানীর ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ডিরেক্টর। সে দায়িত্ব নেবার পর থেকে কোম্পানীর বিক্রি বাট্টা এমন বেড়েছে যে, কোম্পানীটি এবছর নজিরবিহীন রেকর্ড করেছে। করোনা পরিস্থিতিতে তারা ইতিমধ্যে একলাখের বেশী পিপিই ডাক্তারদের মাঝে অনেকটা নীরবে বিতরণ করেছে। কদিন আগে আমি বললাম, এফডিএসআরকে পাঁচশো পিপিই দে। ও বললো, ডাক্তার ছাড়া কাউকে পিপিই দেওয়া যাবে না। আমি বললাম, এফডিএসআর তো ডাক্তারদেরই সংগঠন। শুনে রাজি হলো। কিন্তু সমস্যা হলো, পিপিইগুলো দেশব্যাপী পৌছাব কিভাবে? সেটার সমস্যাও রিভির কাছে পেলাম। বললো, তুই লিস্ট করে দে, আমাদের লোক দিয়ে সবার হাতে হাতে পৌছে দেবো। তৃণমূলের অনেকেই মাঝেমধ্যে আমাদের কাছে পিপিইর সংকটের কথা বলে। ঢাকায় এফডিএসআরকে বললাম একটা লিস্ট করে দিতে, আমিও কয়েকটা নাম দিলাম। রাশিদা ম্যাডাম কেন জানি আমাদের খুব আপন মনে করেন, তার কাছ থেকেও কয়েকটা নাম নিয়ে রিভিকে দিলাম। ব্রাহ্মনবাড়িয়া থেকে আমাদের অন্যতম শুভাকাঙ্খী, ছোটবোন ডা. হ্যাপীও কয়েকটা নাম পাঠালেন। কাল নামের লিস্ট পাঠালাম, আজ থেকেই তাদের কাছে পিপিই পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলে রিভি জানাল। আমি রসিকতা করে বললাম, তুই আমাদের নেতাদের সাথে পিপিই হাতে একটা সেলফি তুলবি না? ও হাসে। রিভিসহ কাছের বন্ধুদের কাছে আমার সীমাহীন ঋণ, এগুলো কোনটাই শোধ করা সম্ভব নয়। ঋণ শোধের ব্যাপারে রিভিই ভাল বলে, ‘দোস্ত, সব ঋণ শোধ করতে নেই। কিছু ঋণ থাকা ভাল।’ শুনে আমার বুকের ভেতরে আলোড়ন হয়। আগামী কয়েকদিনের ভেতরে দেশের কিছু ডাক্তার হঠাৎ করে পিপিই পেলে অবাক হবেন না। এটা এফডিএসআরের অনুরোধে রিভির কোম্পানীর পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি সামান্য উপহার। আপনাদের জন্য অনেক কিছুই করতে ইচ্ছে করে, তবে সীমিত সাধ্যে খুব একটা কিছু আর করা হয়ে ওঠে না। তবু সবার জন্য ভালবাসা।

লেখক : এপিডেমিওলজিস্ট এবং চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেসপন্সিবিলিটিজ (এফডিএসআর)

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
২৬৬,৪৪৫
সুস্থ
১৫৩,০৮৬
মৃত্যু
৩,৫১৩

সর্বশেষ

আক্রান্ত
২,৯৯৫
সুস্থ
১,১১৭
মৃত্যু
৪২
সূত্র: আইইডিসিআর

ভাষা সৈনিক চিকিৎসক

নিউজ

মুক্তমত

সংগঠন

হাসপাতাল