চিকিৎসা ও সুরক্ষা সরঞ্জামের সংকট


মে ২ ২০২০

বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম বা পিপিইর। পাশাপাশি চাহিদা রয়েছে গাউন, মাস্ক, ভেন্টিলেটর এবং পরীক্ষা সরঞ্জামেরও। পিপিইর চাহিদা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ব্রিটেনে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়, চিকিৎসক, নার্স এবং সেবাদানকারী কর্মীরা অবশ্যই করোনা রোগীকে সেবা দেওয়ার পর তাঁদের গ্লাভস ও অ্যাপ্রোন খুলে ফেলবেন। আর মাস্কের মতো জিনিসগুলো শিফট শেষ করে পাল্টানো যাবে।

তবে মান বজায় রেখে এসব সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ নয়। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন এগুলোর চাহিদা ২০ গুণ বেড়েছে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যকর্মীরা গত ১৭ এপ্রিল জানান, পিপিই ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে পুনরায় ব্যবহার করছেন তাঁরা। দেশটিতে সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ময়লা ফেলার পলিথিনও ব্যবহার করতে দেখা গেছে। হাসপাতালগুলোতে পিপিইর জন্য হাহাকার শুরুতেও ছিল, এখনো আছে।

বিশ্বের মোট মাস্কের চাহিদার অর্ধেকই এই মহামারির আগ পর্যন্ত আসত চীন থেকে। মহামারির পর দেশটি মাস্ক উৎপাদন ১২ গুণ বাড়িয়েছে; কিন্তু তারা বিদেশে পাঠানো কমিয়ে দিয়েছে। কারণ উৎপাদিত মাস্কের বেশির ভাগই পরিস্থিতির কারণে তাদের নিজেদেরই প্রয়োজন হচ্ছে।

করোনার ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি হঠাৎ করেই স্থবির হয়ে পড়েছে। বিমান চলাচল বিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ফ্লেক্সপোর্ট জানায়, বিশ্বের ৮০ শতাংশ যাত্রীবাহী বিমানের উড়ান বন্ধ রয়েছে। জাহাজগুলোও বন্দরে নোঙর করা বন্ধ করেছে।

নানামুখী অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। জানা গেছে, ফ্রান্সের পথে প্রায় রওনা হয়ে যাওয়া মাস্কের চালান চীনের সাংহাই বিমানবন্দরে আটকে তার দাম তিন গুণ বাড়িয়ে কিনে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে শুধু এ ধরনের পদক্ষেপই নয়, বহু দেশই নিজেদের সুরক্ষায় রক্ষণশীল পন্থায় এগোনোর চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সংগঠনের বাইরের দেশে রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কয়েকটি দেশ অবশ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও রপ্তানিতে ইচ্ছুক ছিল না। পরে ইইউ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। এ মাসের গোড়ার দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পিপিই, ভেন্টিলেটর, মাস্ক ও গ্লাভস রপ্তানি নিষিদ্ধ করেন; যদিও যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণে এই পণ্যগুলো আমদানি করে মজুদ করছে।

ফ্যাশনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও মাস্ক তৈরি করতে শুরু করেছে। সুইডেনের এইচঅ্যান্ডএম ইতালি ও স্পেনকে ৫০ হাজার করে মাস্ক তৈরি করে দিয়েছে। তারা পরিকল্পনা করছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সুইডিশ হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার একবার ব্যবহার উপযোগী অ্যাপ্রোন সরবরাহ করবে। ৬০ হাজার অ্যাপ্রোন তৈরি করছে কানাডার গুজ কম্পানি। ক্রিস্টিয়ান ডিওর পারফিউম তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের এলভিএমএইচ এখন স্যানিটাইজার তৈরি করছে। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বানাচ্ছে ভেন্টিলেটর। জেনারেল মোটর থেকে শুরু করে ফোর্ড, পিএসএ, ভালেও—সবাই এখন একই পথে।

ব্রিটিশ জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মীরা জানান, তাঁদের কাছে দেওয়া ড্রপলেট প্রতিহতকারী পিপিই মানসম্মত নয়। একই অভিযোগ তুলে ইউরোপ থেকে সম্প্রতি চীনের বেশ কিছু সরঞ্জাম ফেরত পাঠানো হয়।

আবার মানসম্মত সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রে উপকরণপ্রাপ্তিও সহজ নয়। ফোর্ড (গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান) যে কাপড় দিয়ে তাদের এয়ারব্যাগ তৈরি করে, সেটি দিয়ে পিপিই বানাচ্ছে। ভোলপে বলেন, মাস্কের জন্য কিছু ফ্যাব্রিক শুধু চীনেই পাওয়া যায়। আবার লালা পরীক্ষার জন্য যে প্লাস্টিক লাগে তা বিধি-নিষেধের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর আনা যাচ্ছে না। জটিল চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সংকট আরো প্রকট। ব্রিটিশ সরকার গাড়ি ও বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিয়ে ভেন্টিলেটর তৈরি করাচ্ছে। কারণ এসব নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সরবরাহ করতে পারছে না।

সংকট অন্যদিকেও আছে। শুধু ভেন্টিলেটর তৈরি করতে পারলেই হবে না, এটি স্থাপন ও দেখাশোনার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন। এর সঙ্গে হূিপণ্ড ও কিডনির পর্যবেক্ষণকারী যন্ত্রেরও দরকার হয়। পাশাপাশি অক্সিজেনের চাপ লাগে তুলনামূলকভাবে বেশি। এই সব কিছু নিশ্চিত করার জন্য অনেকখানি জায়গারও প্রয়োজন হয়। বহু হাসপাতালের পক্ষে এর সব কটি শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়।

এখানে আরেকটি বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উৎপাদনগুলো হতে হবে স্থানীয় পর্যায়ে। আমদানিনির্ভর হলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। যেমন—জ্যামাইকা তাদের ৯৩ শতাংশ রেসপিরেটর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে। ফেস শিলড, গ্লাভস এবং সুরক্ষা চশমা আমদানি করে ইইউ থেকে। এখন তাদের চাহিদা বাড়লেও সরঞ্জাম পাওয়া যাচ্ছে না।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
২৬৬,৪৪৫
সুস্থ
১৫৩,০৮৬
মৃত্যু
৩,৫১৩

সর্বশেষ

আক্রান্ত
২,৯৯৫
সুস্থ
১,১১৭
মৃত্যু
৪২
সূত্র: আইইডিসিআর

ভাষা সৈনিক চিকিৎসক

নিউজ

মুক্তমত

সংগঠন

হাসপাতাল